Deleted
প্রকাশ : Mar 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সাভারের দূষণ আজ ঢাকার দ্বিগুণের বেশি

সাভারে বায়ুর মান ‘দুর্যোগপূর্ণ’, ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণাতেও কমেনি দূষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী সাভার এলাকার বায়ুদূষণ এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১০টায় আইকিউএয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৭০ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত নগরীর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ঢাকা। ঢাকার বায়ু ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় থাকলেও এর ঠিক পাশেই সাভারের অবস্থা ছিল আরও ভয়াবহ। সাভারে বায়ুর মান রেকর্ড করা হয়েছে ৬৪০, যা মানদণ্ড অনুযায়ী সরাসরি ‘দুর্যোগপূর্ণ’।

কেন এই বিপর্যয়?

২০২৫ সালে সাভার উপজেলাকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। এই ঘোষণার আওতায় বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল:

  • টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া অন্য সব ইটভাটা বন্ধ রাখা।

  • উন্মুক্ত স্থানে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা।

  • দূষণকারী নতুন কোনো শিল্পকারখানাকে ছাড়পত্র না দেওয়া।

তবে মাঠপর্যায়ে এসব নির্দেশনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্যোগটি কাগজে-কলমে ভালো হলেও বাস্তবায়নের অভাবে কোনো সুফল মেলেনি।

বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন,

“সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করা একটি শুভ উদ্যোগ ছিল। কিন্তু আমরা তখনই বলেছিলাম কথার চেয়ে কাজ বেশি করতে হবে। গত দেড় বছরে পরিবেশ উন্নয়নে কথা হয়েছে অনেক, কিন্তু কাজ হয়েছে সামান্যই।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মোহাম্মদ জিয়াউল হক স্বীকার করেছেন যে সব নিয়ম যথাযথভাবে মানা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, ঘোষণার পর মাত্র তিন মাস ইটভাটাগুলো বন্ধ ছিল, এরপর আবারও অনেকগুলো চালু হয়ে গেছে। সাভারের এই ভয়াবহ দূষণের পেছনে ইটভাটা ছাড়াও অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে অধিদপ্তর।

ঢাকার ওপর প্রভাব

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাভারে থাকা ১০৬টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র দুটি পরিবেশবান্ধব। শুষ্ক মৌসুমে উত্তর দিক থেকে আসা বাতাস সাভারের সব দূষণ সরাসরি ঢাকার দিকে নিয়ে আসে। ফলে সাভারের অবনতিশীল পরিস্থিতি ঢাকাকেও বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন সব অংশীজনকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা যুদ্ধাপরাধ হলেও তা নিয়ে ‘চিন

1

ঢাকায় মশার ভয়াবহ উপদ্রব: প্রতি ঘণ্টায় কামড়াতে আসছে প্রায় ৭০০

2

আজকের মুদ্রাবাজার: জেনে নিন ডলার ও রিয়ালের সর্বশেষ বিনিময় হা

3

জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে কোনো দলের ব্যানারে দেখতে চাই না

4

ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব: জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্

5

ইরান যুদ্ধে প্রকাশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা

6

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে একের পর এক ‘ভাঙন’ এনসিপিতে

7

শিশুর দুধদাঁত কি কেবলই অস্থায়ী? অবহেলা ডেকে আনতে পারে দীর্ঘম

8

নতুন সরকারের কাছে শাকিব খানের দাবি

9

মোটরসাইকেল নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন দোকানি, ট্রাক্টরের চাপায় প্

10

ফেব্রুয়ারিতেই ১০ বার কাঁপল বাংলাদেশ: ভয়াবহ বিপর্যয়ের শঙ্কা

11

অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সংস্কার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে

12

রায়ে অসন্তুষ্ট আবু সাঈদের বাবা-মা: পূর্ণাঙ্গ সংবাদ

13

ঢাকার দুই পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ, কিউআর কোড দিয়ে নেওয়া যাব

14

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাবে না বাংলাদেশ, বিসিবির চ

15

নীলফামারীর ৪ আসনে জাপাসহ ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল | নির্

16

হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের পাতা মাইন শনাক্ত করতে পারছে না ইরান:

17

যৌন স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে তরমুজ: গবেষকদের চাঞ্চল্যকর তথ্

18

কৃষি ব্যাংকের বড় সাফল্য: প্রবাসী আয়ে টানা দ্বিতীয় স্থান অর্জ

19

নীলফামারী ১ ও ২ আসনের প্রার্থীতার যাচাই বাছাই সম্পন্ন

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন