Deleted
প্রকাশ : Mar 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আত্মহননের বদলে আত্মোপলব্ধির হাইকু

Gemini said

জাপানি জেন কবি ও সন্ন্যাসী সান্তোকা তানেদার জীবন ও তাঁর আধ্যাত্মিক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ নিবন্ধ নিচে তুলে ধরা হলো:


সান্তোকা তানেদা: এক ‘হাঁটতে থাকা’ সন্ন্যাসী ও তাঁর জ্বলন্ত পাহাড়শিখরের কবিতা

সাহিত্য ডেস্ক | ঢাকা জাপানি হাইকু সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অথচ একাকী নক্ষত্রের নাম সান্তোকা তানেদা। যাঁর জন্মনাম ছিল শোয়িচি তানেদা, কিন্তু বিশ্ব তাঁকে চেনে ‘সান্তোকা’ নামে—যার অর্থ ‘জ্বলন্ত পর্বতশিখর’। এক ধনী জমিদার পরিবারে জন্ম নিয়েও যাঁর জীবন কেটেছে চরম দারিদ্র্য, মদ্যপান আর একাকীত্বের নীল দহনে।

শৈশবের ক্ষত ও ছন্নছাড়া জীবন

১৮৮২ সালে জাপানের ইয়ামাগুচিতে জন্ম নেওয়া সান্তোকার জীবন ছিল ট্র্যাজেডিতে ভরা। মাত্র ১১ বছর বয়সে মায়ের আত্মহত্যা তাঁর মনে গভীর দাগ কাটে। পরবর্তী জীবনে ব্যর্থ শিক্ষা জীবন, পারিবারিক দেউলিয়া দশা, ছোট ভাইয়ের আত্মহত্যা এবং দাম্পত্য বিচ্ছেদ তাঁকে মদ্যপানে আসক্ত করে তোলে। ১৯২৪ সালে তিনি রেললাইনে দাঁড়িয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, কিন্তু একটি ট্রেনের জরুরি ব্রেক তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে।

‘হাঁটতে থাকা ভিক্ষু’: এক ভিন্ন ঘরানার জেন সাধনা

আত্মহত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এক জেন মন্দিরে তাঁর আধ্যাত্মিক রূপান্তর ঘটে। ৪২ বছর বয়সে সন্ন্যাসী হিসেবে দীক্ষিত হলেও তিনি মন্দিরের চার দেয়ালে নিজেকে আটকে রাখেননি। তিনি বেছে নেন ‘হাঁটতে থাকা ভিক্ষু’র জীবন। তাঁর বিখ্যাত দর্শন ছিল— “আমি হাঁটি, তাই আমি আছি।”

জীবনের শেষ ১৫ বছরে তিনি প্রায় ৪৫ হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন। তাঁর কাছে হাঁটা কেবল ভ্রমণ ছিল না, তা ছিল এক গতিশীল ধ্যান বা ‘মুভিং মেডিটেশন’।

কবিতার নতুন ভাষা: মুক্ত ছন্দের হাইকু

সান্তোকা প্রথাগত ৫-৭-৫ ছন্দের হাইকুর নিয়ম ভেঙে ফেলেন। তাঁর কবিতা ছিল অলংকারহীন, সরল এবং সত্যের নিবিড় প্রকাশ। দারিদ্র্য, একাকীত্ব আর প্রকৃতির তুচ্ছ বিষয়গুলোই ছিল তাঁর কবিতার উপজীব্য। তিনি বলতেন, “যখন আমার কিছুই থাকে না, তখনই পৃথিবীকে সবচেয়ে কাছে পাই।” তাঁর ৮০ হাজারের বেশি হাইকু এবং দিনলিপি বর্তমানে জাপানি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

সান্তোকার হাইকুর নির্যাস

সান্তোকার কবিতাকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করা যায়: ভাঙন, অনুসন্ধান, নীরবতা, গ্রহণ এবং স্বচ্ছতা। তাঁর একটি বিখ্যাত হাইকুর ভাবানুবাদ হলো:

“আজকে বুঝলাম— > হাঁটার ভেতরেই > আমার ঘর।”

মহাপ্রয়াণ ও উত্তরসূরিদের জন্য বার্তা

১৯৪০ সালে ৫৭ বছর বয়সে এই মহান কবির প্রয়াণ ঘটে। সান্তোকা নিজেকে কখনো নিখুঁত সাধু দাবি করেননি; বরং নিজের মদ্যপান ও দুর্বলতাকে সততার সঙ্গে কবিতায় প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সময়েও জাপানে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ তাঁর কবিতা মানুষের আত্মার নিঃসঙ্গতা ও সংগ্রামের মাঝে এক গভীর শান্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

সান্তোকা তানেদা আমাদের শিখিয়ে গেছেন—জীবন যেমন, তাকে ঠিক তেমনভাবেই গ্রহণ করা হলো শ্রেষ্ঠ শিল্প।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লোকসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেন মোদি: সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল

1

রোববার থেকে নতুন পদ্ধতিতে তেল বিক্রি

2

জ্বালানি তেল বিক্রিতে আজ থেকে রেশনিং থাকছে না, প্রয়োজনমতো

3

রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: আটক অ

4

নীলফামারী ১ ও ২ আসনের প্রার্থীতার যাচাই বাছাই সম্পন্ন

5

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা উত্তর কোরিয়ার: কি

6

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমা বিস্ফ

7

জামায়াত নেতার নির্দেশে ‘ভোটের সিল’ বানায় প্রেস মালিক

8

রান্নায় অতিরিক্ত তেলের ব্যবহার: বাড়ছে জটিল ও অজানা রোগের ঝুঁ

9

ঋণখেলাপি শনাক্তে তৎপর ব্যাংক

10

ভোক্তা অধিকার দু’টি প্রতিষ্ঠানে জরিমানা করেছে

11

টি–টুয়েন্টিতে বাবর কি তাহলে সত্যিই ‘অচল’

12

ইরান যুদ্ধ নিয়ে যা জানি তাতে রাতে ঘুম আসে না: ইতালির প্রতিরক

13

রাজনীতির নয়া মোড়: ঢাকা-১৭ আসনে লড়বেন তারেক রহমান, ভোলায় ফিরে

14

অবশেষে বিয়ের খবরে সিলমোহর দিলেন রাশমিকা-বিজয়

15

হরমুজ প্রণালী দিয়ে কেবল চীন ও রাশিয়ার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দ

16

সোনার দামে সুখবর

17

কেন্দ্রীয় গুদামে ৬ ধরনের টিকার মজুত শূন্য: হামের প্রকোপে ৪১

18

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা যুদ্ধাপরাধ হলেও তা নিয়ে ‘চিন

19

ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষ, কয়েক সপ্তাহে আরও কঠোর হামলা: জাতির উদ্

20
ফটোকার্ড বানাতে ক্লিক করুন